Biblebani.net
What does it mean that ‘God is love’?

ঈশ্বর প্রেম এর মানে কি?

আপনার জন্য প্রশ্ন: ঈশ্বর প্রেম এর মানে কি?

বাইবেল বলে ‚ঈশ্বর নিজেই প্রেম“ এবং আরও বলে কিভাবে তিনি প্রেম: যাদের অন্তরে ভালবাসা নেই তারা ঈশ্বরকে জানে না, কারণ ঈশ্বর নিজেই ভালবাসা। আমাদের প্রতি ঈশ্বরের ভালবাসা এইভাবে প্রকাশিত হয়েছে- তিনি তাঁর একমাত্র পুত্রকে এই জগতে পাঠিয়ে দিলেন যেন আমরা তাঁর মধ্য দিয়ে জীবন পাই। আমরা যে ঈশ্বরকে ভালবেসেছিলাম তা নয়, কিন্তু তিনি আমাদের ভালবেসে তাঁর পুত্রকে পাঠালেন, যেন পুত্র তাঁর নিজের জীবন-উৎসর্গে করে আমাদের পাপ পরিস্কার করে ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করেন। এটাই হল ভালবাসা (১ যোহন ৪:৮-১০)।

অবিছিন্ন প্রেম

কোন কোন সময়, যখন আমরা আমাদের জীবনের হতাশা এবং জটিলতার সম্মুখিন হই তখন সন্দেহে পরি যে সত্যিই ঈশ্বর আমাদের ভালবাসেন কিনা। কিন্তু যখন আমরা মনে করি যে যীশু আমাদের পরিবর্তে ক্রুশে কত দুঃখভোগ করেছেন, তখন আমরা আস্থা পাই। আজকের জীবন যেমনই হোক, ঈশ্বর অনন্তকালের জন্য প্রমাণ করছেন যে তিনি সব সময়ই আমাদের ভালবাসেন।

‚কিন্তু ঈশ্বর যে আমাদের ভালবাসেন তার প্রমাণ এই যে, আমরা পাপী থাকতেই খ্রীষ্ট আমাদের জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন।“ (রোমীয় ৫:৮)

যীশু আমাদের শিক্ষা দেন প্রকৃত ভালবাসা শুধুমাত্র অনুভূতিতেই নয়। অন্যদের জন্য ভাল কিছু করতে গিয়ে অনেক ত্যাগ করতে হয়: ‚কেউ যদি তার বন্ধুদের জন্য নিজের প্রাণ দেয় তবে তার চেয়ে বেশী ভালবাসা আর কারও নেই।“ এমনকি ঈশ্বর আমাদের জীবনে যা ঘটান বিশ্বাসীরা তা নিয়েও অনেক সময় বিভ্রান্তিতে পরেন, কিন্তু ঈশ্বর প্রতিজ্ঞা করেছেন যে, ‚আমি কখনও তোমাকে ছেড়ে যাব না বা কখনও তোমাকে ত্যাগ করব না“ (ইব্রীয় ১৩:৫)। তিনি আমাদেরকে এতটাই ভালবেসেছেন যে তার একমাত্র পুত্রকে মৃত্যুবরণ করতে দিয়েছেন যেন আমরা জীবন পাই (যোহন ৩:১৬)। যাতে করে আমরা জীবনের সকল পরিস্থিতিতে বুঝতে পারি আমাদের জন্য তাঁর ভালবাসা কতটা দৃঢ় (রোমীয় ৮:৩৮-৩৯)।

ঈশ্বর শুধুমাত্র খ্রিস্টিয়ানদের ভালবাসেন তা নয়

ঈশ্বর নিজেই প্রেম, এর মানে আমরা আমাদের মধ্য দিয়ে ঈশ্বরের ভালবাসাকে প্রতিফলিত করি: ঈশ্বর নিজেই ভালবাসা। ভালবাসার মধ্যে যে থাকে সে ঈশ্বরের মধ্যেই থাকে এবং ঈশ্বর তার মধ্যে থাকেন। (১ যোহন ৪:১৬)

পরিত্রাণ শুধুমাত্র যীশু খ্রিষ্টের মাধ্যমে বিশ্বাসের মাধ্যমেই পাওয়া যায় (যোহন ১৪:৬, প্রেরিত ৪:১২, রোমীয় ১০:৯)। ঈশ্বর শুধুমাত্র খ্রিস্টিয়ানদেরকেই ভালবাসেন তা নয়। তিনি এই পৃথিবীর সবাইকে ভালবাসেন (গীতসংহীতা ১৪৫:৯)। তিনি তো ভাল-মন্দ সকলের উপরে তাঁর সূর্য উঠান এবং সৎ ও অসৎ লোকদের উপরে বৃষ্টি দেন (মথি ৫:৪৫)। তিনি তোমাদের প্রতি ধৈর্য্য ধরছেন, কারণ কেউ যে ধ্বংস হয়ে যায় এটা তিনি চান না, বরং সবাই যেন পাপ থেকে মন ফিরায় এটাই তিনি চান (২ পিতর ৩:৯)। তিনি উদারভাবে দান করেন ‚তিনি প্রচুর খাবার দান করে আপনাদের মনকে আনন্দে পূর্ণ করেছেন“ (প্রেরিত ১৪:১৭)। যেভাবে ঈশ্বর শত্রুদের ও দূর্বলদের প্রতি তাঁর দয়া প্রদর্শন করেছেন (লূক ১৪:১৭)। ঠিক যেভাবে ঈশ্বর অকৃতজ্ঞ এবং দুষ্টদেরও দয়া করেন (লূক ৬:৩৫), সেভাবে আমাদের স্বর্গস্থ পিতার সত্যিকার সন্তান হিসেবে আমরা শুধু তাদের প্রতিই আমাদের ভালবাসা প্রকাশ করব না যারা তা ফেরত দিতে পারে (মথি ৫:৪৬-৪৭), কিন্তু আমরা আমাদের প্রতিবেশীদেরো ভালোবাসব (লুক ১০:২৫-৩৭)। আমরা তাদেরকেও ভালবাসব যারা আমাদের ঘৃণা এবং নির্যাতন করে (মথি ৫:৪৪), মনে রাখতে হবে যে ঈশ্বর আমাদেরকে তখনও ভালবেসেছেন ‚আমরা যখন ঈশ্বরের শত্রু ছিলাম“ (রোমীয় ৫:১০) ‚অবাধ্যতা আর পাপের দরুন তোমরা মৃত ছিলে“ (ইফিষীয় ২:১)।

ঈশ্বরের ভালবাসা চিরকালস্থায়ী

ত্রিত্ববাদ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে ঈশ্বরের ভালবাসা এই পৃথিবী থেকে অতি প্রাচীন এবং নিরাপদ। পৃথিবীর পূর্বে থেকেই ঈশ্বরের তিনটি স্বত্বা- পিতা, পুত্র এবং পবিত্র আত্মা। এই তিনটি স্বত্বা একটি নিখুত ভালবাসায় এক (যোহন ১৭:২৪)। আজ থেকে প্রায় ২০০০ বছর আগে যীশু মানুষরূপে পৃথিবীতে এসেছিলেন (যোহন ১:১৪) যাতে আমরা তাঁর ভালবাসা এবং সহভাগিতা পরস্পরের মাঝে ভাগ করে নেই (২ করিন্থীয় ১৩:১৪)।

‚ঈশ্বর ভালবাসা“ বলতে কি বোঝায়? আসুন আমরা যীশুর দিকে দৃষ্টি রাখি এবং প্রথমে তিনি আমাদের যেভাবে তাঁর ভালবাসা দেখিয়েছেন সেভাবে একে অন্যকে ভালবাসি। তারপর, আমরা যেভাবে আমাদের সমস্ত মন, প্রাণ এবং সমস্ত অন্তরকরণ দিয়ে পিতাকে ভালবাসি তেমনি প্রতিবেশীকেও নিজের মতো ভালবাসি (লুক ১০:২৭)। তাহলে এই পৃথিবীর সবাই দেখতে পাবে এবং প্রশ্ন জিজ্ঞাস করার পূর্বেই আমাদের জীবন দেখে তারা উত্তর পেয়ে যাবেন (যোহন ১৩:৩৪-৩৫)।

Biblebani