Biblebani.net
মুসলিম এবং খ্রিষ্টিয়ানরা কি একই ঈশ্বরের আরাধনা করে?

মুসলিম এবং খ্রিষ্টিয়ানরা কি একই ঈশ্বরের আরাধনা করে?

আপনার প্রশ্ন: মুসলিম এবং খ্রিষ্টিয়ানরা কি একই ঈশ্বরের আরাধনা করে?

মুসলিম এবং খ্রিস্টিয়ানরা ঈশ্বরকে কিভাবে দেখেন তার মধ্যে মিল আছে। উভয়ই এক ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন, যিনি এই সমগ্র পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। মুসলমানরা যে ধর্মগ্রন্থ কোরান অনুসরণ করেন তার সাথে বাইবেল এর মধ্যে মিল আছে। দুটি ধর্মগ্রন্থেই অব্রাহাম, মোশি এবং রাজা দাউদকে পাওয়া যাবে। মুসলিম ও খ্রিষ্টান উভয় ধর্ম মতোই, ঈশ্বর সর্বময় ক্ষমতা অধিকারী, সবত্র বিরাজমান এবং সর্ব শক্তিশালী। যীশুকেও এই উভয় ধর্মীয় পুস্তক কোরান ও বাইবেলে পাওয়া যাবে।

তিনি শুধুমাত্র একজন নবী নন

যাহোক, এই দুটি দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে বিরাট কিছু পার্থক্য আছে। খ্রিষ্টিয়ানেরা যীশুকে মুক্তিদাতা, ঈশ্বরের সন্তান যিনি আমাদের পাপের মূল্য পরিশোধ করেছেন (যোহন ৩:১৬) বলে বিশ্বাস করেন। তিনি শুধুমাত্র একজন নবী নন, যেভাবে মুসলিমরা মনে করেন।  খ্রিষ্টিয়ানেরা মনে করেন যে ঈশ্বর মানুষে মুর্তিমান হয়ে আসলেন (কলসীয় ১:১৫-১৭, ১৯)। যিশু খ্রিষ্টিয়ান বিশ্বাসের মূল কেন্দ্রবিন্দু, কারণ সমস্ত কিছুই তার উপর নিভর্র করে। তিনি পাপ ও মৃত্যুকে পরাজিত করেছেন, এবং পিতা ঈশ্বরের সাথে আমাদের মিলন ঘটিয়ে  দিয়েছেন (কলসীয় ১:২০)। তিনি মৃত্যু থেকে পুনরুত্থিত হয়েছেন এবং যারা তাকে বিশ্বাস করেন তারাও যীশুর মতো মৃত্যু থেকে পুনরুত্থিত হবেন (১ করিন্থীয় ১৫:২০-২৩)।

পবিত্র আত্মাও খ্রিষ্টিয় জীবনের ও বিশ্বাসের মূল বিষয়। একজন বিশ্বাসীর জীবনে পবিত্র আত্মার কাজ ব্যতিত, ঈশ্বর সম্পর্কে সত্যিকারের ধারণা অসম্ভব (যোহন ১৬:১৩-১৪)। এটা সেই আত্মা যার মাধ্যমে বিশ্বাসীরা ঈশ্বরের বাক্য, বাইবেল বুঝতে সক্ষম হন। এটা সেই আত্মা যার মাধ্যমে বিশ্বাসীরা ঈশ্বরের সন্তান যীশুর মতো হওয়ার জন্য তাদের চিন্তা ও কাজকে পরিবর্তন করে দেয় (রোমীয় ৮:৫, ৯; গালাতীয় ৫:২২)।

ঈশ্বরের কাছে যাওয়ার একমাত্র পথ

মুসলিম এবং খ্রিষ্টিয়ানরা কি একই ঈশ্বরের আরাধনা করে? একজনই সত্যিকার ঈশ্বর আছেন। আসল প্রশ্ন হলো যে, কোন দলটি আসলে ঈশ্বর যে কে তা বুঝতে পেরেছেন? ঈশ্বর তার বাক্য বাইবেলের মাধ্যমে নিজেকে প্রকাশ করেছেন এবং আমরা তার পুত্র যীশুর মাধ্যমে তাঁকে জানতে পারি। যীশু নিজে এই দাবী করেছেন যে ঈশ্বরের কাছে যাওয়ার জন্য তিনিই একমাত্র পথ (যোহন ১৪:৬)। তাই মুসলিমরা যদিও ঈশ্বরের আরাধনা/এবাদত করতে চান কিন্তু তারা তাঁকে চেনেন না। সেজন্য, যীশু যেভাবে বলেছেন যে, তারা ঈশ্বরকে পিতার মতো এবং আত্মায় ও সত্যে আরাধনা করতে পারে না (যোহন ৪:২৩)।

ঈশ্বর প্রেম। বাইবেলের প্রতিটি পৃষ্ঠায় এই সত্য প্রকাশিত হয়েছে। বাইবেল আমাদেরকে বলে যে যীশু খ্রীষ্ট আমাদের সকলের অনন্তকালীন শাস্থি এ অন্ধকার থেকে রক্ষা করার জন্য ক্রুশে তার জীবন দিয়েছেন (১ যোহন ৪:৭-১০)। ঈশ্বরের ইচ্ছা হলো যাতে করে সকল মানুষ রক্ষা পায় এবঙ তার কাছে থাকে (১ তিমথীয় ২:৪)- আমরা আমাদের কোন কাজের ফলে যে রক্ষা পেয়েছি তা নয় কিন্তু তার দয়া ও অনুগ্রহেই তা সম্ভব হয়েছে (ইফিষীয় ২:৪)।  সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যে দুনিয়ার সকল মানুষ এভাবেই ঈশ্বরকে জানতে ও গ্রহণ করতে পারে।

Biblebani